ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একধাপে এবং গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে বৈষম্যহীন ১ম পে-স্কেল দাবি বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনে"সংবাদ সম্মেলন।

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৭:২৭:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৭:২৭:২২ অপরাহ্ন
একধাপে এবং গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে বৈষম্যহীন ১ম পে-স্কেল দাবি বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনে"সংবাদ সম্মেলন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ
" মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন বিশেষ প্রতিনিধি। বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যাল কর্মচারী ফেডারেশন। ৬ মার্চ শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী ফেডারেশনের কয়েকশত কর্মচারী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল সহকারে সচিবালয় প্রদক্ষিণ করেন এবং ১২.০০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি উপস্থাপন করেন। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মো: সেলিম মিয়া লিখিত দাবি পেশ করেন। ২০১৫ সালের বৈষম্যমুক্ত ৮ম পে-স্কেল কার্যকরের পর থেকে দীর্ঘ ১১ বছর যাবত বাংলাদেশের সর্বস্তরের গণকর্মচারীরা গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেলসহ বিভিন্ন সময় মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদর্শনসহ কর্মসূচী পালন করে আসছেন। পে-কমিশনের কাছে আমাদের দাবী দেশের বাজার ব্যবস্থা বিশ্লেষণ, ৬ সদস্য পরিবারের জীবন যাপন ব্যয় ও বেতন বৈষম্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার দাবি জানান। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার পে-কমিশন গঠন করলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করায় দেশের ১৯ লক্ষ গণকর্মচারী আশাহত হয়েছেন। বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন মর্মে বিভিন্ন সময়ে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জনাব মো: সেলিম মিয়া বলেন, ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোপূর্বে গঠিত পে-কমিশনের রিপোর্ট দ্রুত যাচাই বাছাই করে সরকারী, শ্বায়তশাসিত ও আধা সরকারী কর্মচারীদের পে-স্কেল প্রণয়নের নির্দেশনা প্রদান করায় কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন সরকার ৩ ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এ ধরণের খবরে গণকর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করেন ১১ বছর বঞ্চিত রেখে ৩ ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে কর্মচারীরা কোন ক্রমেই মেনে নিবেন না। তাদের দাবি বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ রেখে একধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে চলতে পারেন পে-স্কেলে এর সঠিক বাস্তবায়ন থাকতে হবে। একই সাথে ৮ম পে-স্কেলে কেটে নেয়া টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুর্নবহাল করার দাবি জানানো হয়। যদি জাতীয় বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না জানানো হয়, তাহলে পে-স্কেলের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশ আন্ত: বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একযোগে বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করবেন। বাআবিকফের মহাসচিব জনাব মো: জামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মূখ্য সমন্বয়ক মো: ওয়ারেছ আলী, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন খন্দকার, মুখপাত্র খন্দকার গোলাম সিদ্দিক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান ও মহাসচিব বেল্লাল হোসেন, কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, ১১-২০ জাতীয় ফোরামের সভাপতি লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল হাসান, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতির আহবায়ক ছালজার রহমান ও সদস্য সচিব মাহবুব হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি জনাব ছারোয়ার মোর্শেদ, আহ্বায়ক মো. মোশারফ হোসেন কারিগরী কর্মচারী সমিতি, সভাপতি মো. শাহজাহান চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন, সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, সভাপতি মো. আব্দুস সালাম চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন, ১৭-২০ কর্মচারী সমিতির সভাপতি রফিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সম্রাট, সরকারি গাড়ী চালক সমিতির আহবায়ক ইসহাক কবির ও সদস্য সচিব হুমাউন কবিরসহ ফেডারেশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ​ ​বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের সুরক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানান তারা। ​"বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে কর্মচারীদের মধ্যে যে বিশাল বৈষম্য রয়েছে, তা নিরসন করা সময়ের দাবি। এক ধাপে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন না হলে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।" — সংবাদ সম্মেলনে কর্মচারী নেতৃবৃন্দ ​ভবিষ্যৎ আল্টিমেটাম ​কর্মচারী নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্মচারীদের এই ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। সরকার যদি দ্রুত এই দাবি মেনে না নেয়, তবে আগামীতে সাধারণ কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দ্রুত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ